পাঁচ ওয়াক্তের সম্পূর্ন নামাজ শিক্ষা,দোয়া-আমল, আরবি-উচ্চারণসহ ২৫টি সূরা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করুন
ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল নামাজ । হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
أَوّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَلَاتُهُ.
কিয়ামত দিবসে বান্দার সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে সালাতের মাধ্যমে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬৯৪৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৮৬৬
হযরত উমর রা.-এর প্রসিদ্ধ বাণী-
إِنّ أَهَمّ أَمْرِكُمْ عِنْدِي الصّلَاةُ. فَمَنْ حَفِظَهَا وَحَافَظَ عَلَيْهَا، حَفِظَ دِينَهُ. وَمَنْ ضَيّعَهَا فَهُوَ لِمَا سِوَاهَا أَضْيَعُ.
নিশ্চয়ই আমার কাছে তোমাদের সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নামাজ যে ব্যক্তি নামাজের হেফাযত করল, যত্ন সহকারে তা আদায় করল, সে তার দ্বীনকে হেফাযত করল। আর যে তাতে অবহেলা করল, (দ্বীনের) অন্যান্য বিষয়ে সে আরো বেশি অবহেলা করবে। -মুয়াত্তা মালেক, বর্ণনা ৬; মুসান্নাফে আবদুর রযযাক, বর্ণনা ২০৩৮
সালাত মূলত খোদাপ্রদত্ত এক মহান নিআমত। রাব্বুল আলামীনের এক বিশেষ উপহার, যা বান্দাকে সকল প্রকার অশ্লীলতা, পাপাচার, প্রবৃত্তিপূজা, ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসের অন্ধ মোহ থেকে মুক্ত করে পূত-পবিত্র ও উন্নত এক আদর্শ জীবনের অধিকারী বানিয়ে দেয়। বিকশিত করে তোলে তার ভেতরের সকল সুকুমারবৃত্তি। তার জন্য খুলে দেয় চিরস্থায়ী জান্নাতের সুপ্রশস্ত দুয়ার।
اِنَّ الصَّلٰوةَ تَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَ الْمُنْكَرِ.
নিশ্চয়ই সালাত অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। -সূরা আনকাবূত (২৯) : ৪৫
সুচিপত্রঃ
**ফজরের নামাজ
ফজরের ২ রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত
ফজরের ২ রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত
**জোহরের নামাজ
জোহরের ৪ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
জোহরের ৪ রাকায়াত ফরজ নামাজের নিয়ত
জোহরের ২ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
জোহরের ২ রাকায়াত নফল নামাজের নিয়ত
**আছরের নামাজ
আছরের চার রাকায়াত সুন্নাত নামাযের নিয়ত
আছরের চার রাকায়াত ফরজ নামাযের নিয়ত
**মাগরিবের নামাজ
মাগরিবের ৩ রাকায়াত ফরজ নামাযের নিয়ত
মাগরিবের ২ রাকায়াত সুন্নাত ফরজ নামাযের নিয়ত
**এশার নামাজ
এশার ৪ রাকায়াত ফরজ নামাযের নিয়ত
এশার ২ রাকায়াত সুন্নাত ফরজ নামাযের নিয়ত
এশার ৩ রাকায়াত বেতরে নামাযের নিয়ত
মোনাজাত বাংলায় :
নামাজ ইসলামের মূল রুকন বা স্তম্ভ। ঈমানের পরেই নামাজের স্থান। মানুষের জন্য নামাজ ফরজ ইবাদাত। যা আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য আবশ্যক করে দিয়েছেন। নামাজ মানুষের জন্য দৈনন্দিন পালনীয় একটি ফরজ ইবাদাত হলেও সমাজ জীবনে রয়েছে এর সুদূর প্রসারী প্রভাব ও উপকারিতা। যা তুলে ধরা হলো-অশ্লীলতা ও অন্যায় দূরকারীনামাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ জীবন থেকে অশ্লীল ও অন্যায় বিদুরিত হয়ে সামাজিক শৃঙ্খলার উন্নতি হয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।’সাম্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠাকারীজামাআতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সমাজের উঁচু-নীচু, ধনি-নির্ধন দূরত্ব হ্রাস করে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে। পাশাপাশি নামাজের মাধ্যমেই মুসলিম সমাজের ঐক্য গড়ে ওঠে।দায়িত্ববোধ ও সময় সচেতনকারীপ্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সকল মানুষ সময়জ্ঞান ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়।নেতৃত্ব ও আনুগত্যবোধজামাআতে নামাজ আদায়কারী সমাজের প্রত্যেক মানুষের মাঝে ইমাম ও মুক্তাদির আনুগত্যবোধ জাগ্রত হয়।পারস্পরিক সহযোগিতা সৃষ্টিনামাজের জন্য মসজিদ তৈরি ও তার রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমেই সমাজের প্রতি মানুষের সহযোগিতার গুণ সৃষ্টি হয়।নিষ্ঠা ও একাগ্রতা তৈরিনিয়মিত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মানুষের মাজে নিষ্ঠা ও একাগ্রতা তৈরি হয়।উত্তম চরিত্রের অধিকারীদৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মানুষের খারাপ গুণগুলো দূরিভূত হয়ে ভালো গুণের অধিকারী হয়, যা সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে কাজে লাগে।আত্মনিয়ন্ত্রণকারীনিয়মিত নামাজ আদায় ও নামাজের নিয়ম-পদ্ধতির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল গুণ দূর হয়। সমাজের প্রতিটি কাজে ধীরস্থিরভাবে নিয়ন্ত্রিত কাজ কাজ করার সুযোগ হয়।পরিশেষে.সমাজ জীবনে নামাজের বহু উপকারিতা রয়েছে। সুতরাং নিয়মিত নামাজ আদায় করলে মানুষের মাঝে এ গুরুত্বপূর্ণ গুণগুলো সমাবেশ ঘটবে। যা সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আল্লাহ তাআলা সমাজের প্রতিটি মানুষকে সুন্দর আবহে নামাজ আদায় এবং এ গুণগুলো অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
শেষ কথা:
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র অভ্যাস ছিল যে, যখনই তিনি কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন তখনই নামাজ আরম্ভ করতেন। আর আল্লাহ তা’আলা সে নামাজের বরকতেই তার যাবতীয় বিপদ আপদ দূর করে দিতেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে নামাজের
প্রতি যত্নবান হওয়ার তওফিক দান করুক। আমীন।