ইসলামিক বাংলা গজল অডিও অফলাইন :
অফলাইন অডিও ইসলামিক বাংলা গজল Bangla Gojol অ্যাপে আপনাদের স্বাগতম! অন্তর শীতল করা কিছু বাংলা অডিও গজল App আকারে নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম। এই অ্যাপটিতে পাবেন আপনার মনের মত বাছাইকৃত কিছু bangla gojol audio ও ভিডিও গজল আকারে।এই Gojol App টি আমি দুটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেছি তা হল: অফলাইন অডিও ইসলামিক বাংলা গজল mp3 এবং ভিডিও বাংলা গজল।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা এবং নবী করীম (সঃ) এর সিফত বর্ণনা, আল্লাহ তা'আলা যে রহমান- রহিম, ক্ষমাশীল, লালন-পালন কর্তা, শ্রেষ্ঠ এই ঘোষনা সুরের মাধ্যমে উপস্থাপনই হচ্ছে হামদ-নাত কিংবা গজল। শরীয়ত সম্মত ভাবে এই Offline গজল গুলি শুনতে যেমন শ্রুতিমধুর তেমনি আল্লাহর প্রতি প্রেম ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, মৃত্যু ও আখেরাতের কথা স্মরণ হয়। ইবাদতে মজা বৃদ্ধি করে, ঈমানকে মজবুত করতে সাহায্য করে,শয়তানের কুমন্ত্র থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখতে সাহায্য করে।
Bangla Gojol শোনার উপকারিতা:
ইসলামিক গজল সমগ্র ইসলামী বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয়। একটি গজলের উপাদানে সাধারণত ইসলামী বিশ্বাস, ইতিহাস এবং ধর্মের পাশাপাশি বর্তমান ঘটনাগুলি উল্লেখ করা হয়।গজল হালকা মেজাজের লঘু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। আবার হালকা-গম্ভীর রসের মিশ্রণে সিক্ত আধ্যাত্মিক গান। গজল প্রেমিক-প্রেমিকার গান হলেও এ গান এমন একটি শৈলী যাতে প্রেম ও ভক্তির অপূর্ব মিলন ঘটেছে। পার্থিব প্রেমের পাশাপাশি গজল গানে আছে অপার্থিব প্রেম, যে প্রেমে স্রষ্টার প্রতি আত্মার আকূতি নিবেদিত।
ইসলামিক গজল বা নাশিদ শোনার দ্বারা যদি ঈমান তাজা হয় ও রাসূলের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং কুরআনের প্রতি মহব্বত সৃষ্টি হয় আর এর দ্বারা সওয়াব লাভ হয়।
তবে বর্তমানে ইসলামিক গজল বা নাশিদের নামে যে সকল গজল পাওয়া যায় সেগুলোতে সূক্ষ্মভাবে মিউজিকের অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে। যেগুলো সুস্পষ্টরূপে হারাম। কাজেই ইসলামিক গজল বা নাশিদ শ্রবণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা কাম্য।
ইসলামিক গজলের ইতিহাস :
১৫ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গজল তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। উপমহাদেশে গজল একই সাথে কবিতা ও সঙ্গীতে বিকশিত হয়েছে। গজল হল উর্দু এবং ফার্সি ভাষায় সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা। গজল হল সঙ্গীতের অন্যতম জনপ্রিয় ধারা। সপ্তম শতাব্দীতে আরবে গজলের উদ্ভব হলেও ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে পারস্য কবি রুমি ও হাফিজের রচনার মাধ্যমে এর বিকাশ ঘটে। ভারতীয় কবিরাও উর্দু ও ফার্সি ভাষায় ব্যাপকভাবে গজল চর্চা শুরু করেন।
হযরত আমীর খসরু ভারতে গজল সঙ্গীতের চর্চা শুরু করেন। ভারতীয় সঙ্গীতের 'বন্দিশ' নামে একটি স্বতন্ত্র কাঠামো রয়েছে। এটি পাকিস্তান ও উত্তর ভারতের সঙ্গীত ধারা হিসেবে পরিচিত। বন্দিশের একটা নির্দিষ্ট রাগ ও ছন্দ আছে। বন্দিশের প্রথম অংশকে 'অস্থাই' এবং দ্বিতীয় অংশকে 'অন্তরা' বলা হয়। গজলে মাতলা গাওয়া হয় আস্থাই এবং বাকি পদগুলি অন্তর হিসাবে। এই আয়োজন গায়কদের ইসলামিক গজল গাইতে সুবিধা করে। ইসলামিক গজলে রাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা একজন গায়ককে তার গানের মাধ্যমে তার আবেগ প্রকাশ করতে সাহায্য করে। গজল রাগগুলি ভৈরবী, কাফি, খাম্মাজ, পাহাড়ী এবং পিলু নামে পরিচিত। গজলের ছন্দবদ্ধ চক্র প্রায় সবসময় ছয়, সাত এবং আটটি বীটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যা প্রধানত দাদরা, রূপক এবং কেহেরবা নামে পরিচিত। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের শাসনামলে সপ্তম ছন্দের সময়-চক্র খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যার ফলশ্রুতিতে রূপক ছন্দটি পরবর্তীকালে মুঘল নামে পরিচিত হয়। সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের রচিত কবিতা গজল আকারে পরিবেশিত হয়।
মেহের আফরোজ আর নুসরাত খাতুন প্রথম গজল সুরকার হিসেবে গজল রেকর্ড করেন। এই দুই জনপ্রিয় গজল রচয়িতা খিলজি দরবারে আমীর খসরুর রচিত গজল পরিবেশন করতেন। খিলজি সালতানাতের দ্বিতীয় শাসক সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির দুই দশকের শাসনামলে এই গজলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে হিন্দুস্তানি সঙ্গীতে গজলের প্রচলন হয়।
গজল দক্ষিণ এশিয়ায় কবিতা ও সঙ্গীতের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারা। গজল অগণিত শিল্পীদের দ্বারা বিভিন্ন উপায়ে পরিবেশন করা হয়।
গজল ভালো গাইতে হলে ভালো ভাষা-জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। টপ্পা ও ঠুমরির মতো গজল প্রধানত কাফি, পিলু, ঝিঝিট, খাম্বাজ, বারোয়া, ভৈরবী রাগে গাওয়া হয়। ইসলামিক গজলে একটি বিশেষ আবেদন আছে, তাই এ গজল শ্রোতার মনকে রসে আপ্লুত করে তোলে। গজল খুবই জনপ্রিয় গান। সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর, মীর্জা গালিব, দাগ, জওক, আরজু প্রমুখ অনেক কবি অজস্র সুন্দর সুন্দর গজল রচনা করে গেছেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর, সম্রাজ্ঞী নূরজাহান, নবাব ওয়াজেদ আলী শাহর মতো ইতিহাস-প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের রচিত অনেক গজল গানের সন্ধান পাওয়া যায়। বাংলা ভাষায় বেশকিছু গজল রচিত হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা গজল(bangla gojol) রচনায় পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন।