নবী কারীম (সাঃ) এর জীবনযাপন, তাঁর নানা আদেশ-নিষেধ জানা তথা একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য । নবী (সাঃ) এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে সহীহ হাদিস জানা ও তদানুযায়ী আমল করবার বিকল্প নেই। হাদিস গ্রন্থ সমূহের মধ্যে মুয়াত্তা ইমাম মালিক অন্যতম। প্রত্যেক মুসলিমের উচিত এই হাদিস গ্রন্থটি অধ্যয়ন করা। অনেকে এই হাদীস গ্রন্থকে সিহাহ সিত্তাহ এর একটি গ্রন্থ বলে মনে করেন। সহিহ বাংলা বুখারী, সহিহ বাংলা মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিজী, ইবনে মাজাহ, সহিহ হাদিসে কুদসী, সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস শরীফ, মিশকাতুল মাসাবিহ হাদিস শরীফ, রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ, হাদীসের কিসসা ইত্যাদির মতই একটি হাদিস গ্রন্থ ।
মুসলমানদের প্রধান চার ইমাম ইমাম আবু হানীফা (রহ), ইমাম শাফেয়ী (রহ), ইমাম মালিক (রহ) ও ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ) । তাদের মধ্যে অন্যতম হাদিস বিশারদ এবং ফিকহের অত্যন্ত সম্মানিত পণ্ডিত ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.) এর সংকলিত একটি হাদীস হচ্ছে মুয়াত্তা ইমাম মালিক । তিনি প্রায় এক লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই বাছাই করে প্রায় এক হাজার নয়শ হাদীস সংকলন করেছেন।
মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থটি পুরোপুরিভাবে মদিনাবাসীদের সরাসরি বর্ণনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হাদীস গ্রন্থটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এই যে, এই গ্রন্থ প্রণয়নের জন্য ইমাম মালিক (রহ.) কে মদীনার বাইরে গমন করতে হয় নি। যেহেতু মদীনার লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং তার সাহাবাদের সবচেয়ে সান্নিধ্য অবস্থান করতেন। তাই তাদের কাছে থেকে খুব সহজেই তিনি হাদীস সংগ্রহ করতে পেরেছেন। সেজন্য এই গ্রন্থটি থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স) এর পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত জীবনী জেনে আমল সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ইসলামী যিন্দেগী পরিচালনা করতে পারবেন।
এই গ্রন্থের আরেকটি বিশেষত্ব হল এই যে, প্রথমে এখানে মহানবী (সাঃ) এর সেরা হাদীস- কথা ও কাজ এবং এরপর সাহাবীদের কথা এবং এরপর তাবিঈদের কুরআন-হাদীসভিত্তিক ফাতওয়া এভাবে ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে। এই হাদীস গ্রন্থের ছোট ছোট প্রয়োজনীয় আমল ও দোয়া জীবনকে বদলে দিতে সাহায্য করবে।
মুয়াত্তা গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা উত্তম সনদ হল জোড়া সনদ। যা মাত্র দুটি সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়। যেমন মালিক নাফি, নাফি বিন উমর (রাঃ) এর সনদ হল হাদীস জগতে স্বর্ণ সনদ। সনদের বিচারের দিক দিয়ে মুয়াত্তার স্থান সবার আগে। এই গ্রন্থের একটী বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এখানে সাহাবা,তাবিঈ এবং তাবী-তাবিঈ পর্যন্ত একটি হাদীস বর্ণিত হওয়ার পর তা গ্রন্থে লিপিবদ্ব হয়। তাই সনদের বিশুদ্বতা এই গ্রন্থে অন্যান্য গ্রন্থেগুলোর তুলনায় অত্যাধিক।
এই গ্রন্থের জনপ্রিয়তা তৎকালীন ইমাম আবূ হানীফার কিতাবুল আসার, ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আহমদ এর মুসনাদ থেকে অধিক জনপ্রিয় ছিল।কারণ এই গ্রন্থটি ইমাম মালিক(রঃ) ব্যতীত আর কেউ সহস্তে তা লিখে নাই।তিনি এই গ্রন্থটিকে কাট-ছাট করে,যাচাই-বাচাই করে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তা প্রকাশ করেছিলেন।
এই গ্রন্থের কথা প্রায় ১০০০ ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন।এতে প্রমাণিত হয় যে, সেই সময় ইসলামী সমাজে মুয়াত্তা ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিল। জনগণ তা সাদরে গ্রহণ করেছিল।বর্ণনাকারীদের আধ্যিকের কারণে এই গ্রন্থের গ্রহণযোগ্যতা বেশী।
মুয়াত্তা গ্রন্থের ব্যাখ্যা গ্রন্থ অসংখ্য। এর সংখ্যা প্রায় ৩০০ এর অধিক হবে। ইমাম হাবীব মালিকি সর্বপ্রথম এই গ্রন্থের ব্যাখ্যা লিখেন,অতঃপর আব্দুর বার, যারকানী এবং আবূ বকর ইবনুল আরাবী প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ সংকলন করেন। এই হাদীসগ্রন্থের ব্যাপারে পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ভবিষৎ বাণী করেছিলেন।রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,সেই সময় খুব দূরে নয় যখন জনগণ ইসলাম হাসিলের জন্য উষ্ট্রপিঠ হতে দূর দূর দেশ সফর করবে এবং তারা মদীনায় অবস্থানকারী আলিমের চেয়ে আর বড় আলিম কাউকে পাবে না। প্রসিদ্ব মুহাদ্দিসগণ এটি একটি পরিপূর্ণ আল হাদিস হিসেবে মন্তব্য করেছেন ।
আশাকরি আমাদের মুয়াত্তা মালিক অ্যাপটি থেকে মুসলিম ভাই বোন সহীহ বাংলা হাদিস ভিত্তিক কিতাবটি অধ্যয়ন করতে পারবেন। অ্যাপটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত জানাবেন।
Download Link:
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.royal_bengal_apps.muyatta_imam_malik